হাওজা নিউজ এজেন্সি: সম্প্রতি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “সব প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নীত করার মাধ্যমে ইরান তার প্রতিরোধ শক্তি শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।”
জেনারেল মুসাভী আরও জোর দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তিনি জানান, “১২ দিনের যুদ্ধের পর আমরা আমাদের সামরিক কৌশল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে রূপান্তর করেছি। অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি বাড়ানোই এখন আমাদের মূল নীতি।”
১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন চালায়, যার ফলে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতে অন্তত এক হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিকও ছিলেন।
সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।
২৪ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সফল প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে ইরান ওই হামলা বন্ধ করতে সক্ষম হয়।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তেহরান ওয়াশিংটনকে “ঐতিহাসিক শিক্ষা” দেবে।
জেনারেল মুসাভী আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের শত্রুদের যেকোনো ভুল হিসাব-নিকাশের জবাব দেওয়া হবে “দ্রুত” ও “নির্ণায়ক” প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত। আমরা কেবল বিজয়ের কথাই ভাবি। শত্রুর বাহ্যিক শক্তিকে আমরা ভয় পাই না; সংঘাত মোকাবিলা এবং কঠোর প্রতিশোধ নিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
আপনার কমেন্ট